পরাগলী মহাভারতের পরিচয় দাও

পরাগলী মহাভারতের পরিচয় দাও ।

পরাগলী মহাভারতের পরিচয় দাও ।
পরাগলী মহাভারতের পরিচয় দাও ।

উত্তর: দ্বাদশ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের শুরু। মধ্যযুগের প্রথম পাদে খিলজী শাসনামলে রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চাষবাস তেমন জমে না উঠলেও সুলতানী আমলে (১৩৪২-১৫৭৫) গৌড়ের শাহী দরবার বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে। 

এ আমলের বিভিন্ন শাসক সুলতান সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, হিন্দি ভাষার বিভিন্ন কাব্য অনুবাদের জন্য যোগ্য কবি-পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা করে সমৃদ্ধ এক অনুবাদ সাহিত্য গড়ে তোলেন।

বাংলার সুলতান হুসেন শাহের সেনাপতি লক্ষর পরাগল খাঁ চট্টগ্রাম জয় করেন এবং সেখানকার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। পরাগল খাঁর সভাকবি ছিলেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর । 

বিদ্যোৎসাহী সাহিত্যানুরাগী পরাগল খাঁ হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থাদির প্রতিও অনুরক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর সভাকবি পরমেশ্বরকে এমনভাবে মহাভারত লিখতে বললেন যাতে পরাগল খাঁ একদিনের মধ্যে সমস্ত মহাভারত শুনতে সমর্থ হন। 

পরাগল খাঁর নির্দেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর খুব সংক্ষেপে মহাভারতের অনুবাদ করেন। অনুবাদ সাহিত্যের বাসরে কবীন্দ্র পরমেশ্বর কর্তৃক অনূদিত ও পরাগল খাঁ কর্তৃক নির্দেশিত মহাভারত পরাগলী মহাভারত নামে পরিচিত।

পরাগলী মহাভারতখানি মূলের অতি সংক্ষিপ্ত অনুবাদ। কিন্তু প্রধান ঘটনা প্রায় কিছুই বাদ পড়ে নি। মহাভারতের তত্ত্বকথা মুসলমান লক্ষরের মনোরঞ্জন করতে পারবে না আশঙ্কা করে পরমেশ্বর শুধু কাহিনী অনুসরণ করেছেন, কিন্তু মূল্যবান তত্ত্বকথা বেমালুম বাদ দিয়ে গেছেন। 

পরমেশ্বর কর্তৃক অনূদিত পরাগলী মহাভারতই প্রথম অনূদিত মহাভারত। পরাগলী মহাভারতের ভাষাভঙ্গি সরল হলেও কাব্যগুণান্বিত নয়, মূল মহাভারতের কোন আস্বাদ এ অনূদিত কাব্য হতে পাওয়া যায় না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ