নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতায় কবির সৌন্দর্যচেতনার পরিচয় দাও
নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতায় কবির সৌন্দর্যচেতনার পরিচয় দাও ।
![]() |
নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতায় কবির সৌন্দর্যচেতনার পরিচয় দাও । |
উত্তর:রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব সৌন্দর্যদেবী ‘মানস সুন্দরী', 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতায় কবির নিকট অপূর্ব রহস্যময়ী নারী। এই দেবী এ কবিতায় কবিকে তাঁর 'সোনার তরী'তে উঠিয়ে নিয়েছেন। সেই অপরিচিত নারীর নৌকায় কবি একাকী নিরুদ্দেশ যাত্রা করেছেন। এই রহস্যময়ী নারী (মানস সুন্দরী) এক প্রবল আকর্ষণে কবিকে অজানা ভবিষ্যতের দিকে টেনে নিয়ে চলেছেন।
এই সৌন্দর্যলক্ষ্মী কবিকে নব নব রূপ উপভোগ করাতে করাতে, নব নব রস পান করাতে করাতে, জীবনের অজ্ঞাত ভবিষ্যতের দিকে চালনা করছেন, এ যাত্রার পরিসমাপ্তি কোথায়— এ অভিযানের সাফল্য কোথায়, কবি তা জানেন না, তবু সম্মোহিত অবস্থায় নীরবহাসিনী অপরিচিতার আহ্বানে কবি তার কাছে ধরা দিয়েছেন।
কবির মানস সুন্দরী সোনার তরীতে উঠিয়ে কবিকে নিয়ে দূর অজানার পথে যাত্রা করেছে। দূরে পশ্চিমে তপন অস্তমিত, সিন্ধু আকুলিত, সৌন্দর্যদেবী কেবল সেসবের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছেন, কিন্তু লক্ষ্য সম্পর্কে কিছুই বলছেন না। কবি প্রশ্ন করেছেন— ওই ঊর্মিমুখর সাগর পাড়ে কি দেবীর আলয়, ওখানে কি স্নিগ্ধ মরণ ও শান্তি আছে? দেবী কবির দিকে চেয়ে কেবল হাসে- কোনো উত্তর দেয় না। রজনী অন্ধকার হয়ে আসছে, দেবীর দেহসৌরভ ও বায়ুভরে উড়েপড়া কেশরাশির স্পর্শ কবি পাচ্ছেন কিন্তু কোথায় ভেসে চলেছে তা কবি জানেন না।
মূলত 'সোনার তরী'র যুগে কবির মনে নানা ধরনের প্রেরণা- নানা সুখ-দুঃখ-বেদনা, নানা উদ্দেশ্য-আদর্শ তাঁর মনে জেগেছিল— তাঁর বিচিত্র কর্মচেষ্টায় তাঁর সে পরিচয় রয়েছে- বাস্তবিক তিনি বুঝতে পারেন নি তাঁর দেবী তাঁকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে। নানামুখী ভাবের অবতারণা এবং সেগুলোর দিকে ধাবিত হওয়ার বিষয়টিকে কবি ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ কবিতার মধ্য দিয়ে তুলে এনেছেন।