শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের অন্য নাম কবির নাম ও উপাধি এবং রচনাকাল লেখ
শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের অন্য নাম, কবির নাম ও উপাধি এবং রচনাকাল লেখ।
![]() |
শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের অন্য নাম কবির নাম ও উপাধি এবং রচনাকাল লেখ |
উত্তর:বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যেসব অনুবাদ গ্রন্থগুলো বিশেষত্ব অর্জন করেছে সেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে অনূদিত মহাভারত, রামায়ণ ও ভাগবত। মালাধর বসু ওরফে গুণরাজ খান ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন, কাব্যটির নাম দেন 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'।
তিনি গৌড়েশ্বর রুকনুদ্দিন বররক শাহ (১৪৫৯–৭৪ খ্রি.) মতান্তরে শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের (১৪৭৪–৮১ খ্রি.) পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যটি রচনা করেন। কবি ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে ১৪৭৩ খ্রি. – ১৪৮০ খ্রি. এই সাত বছরের প্রচেষ্টায় ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যখানি
রচনা করেন ।
শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের বিষয়বস্তু হচ্ছে— শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও দ্বারকালীলা, যদুকুল ধ্বংস ও কৃষ্ণের দেহ ত্যাগের ঘটনা- যা ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধের ঘটনা। ভাগবত হতে অনুবাদ করতে গিয়ে কবি ভাগবতের তত্ত্বকথা যথাসম্ভব বাদ দিয়ে কেবল কাহিনীকেই শ্ৰীকৃষ্ণবিজয় কাব্যে তুলে ধরেছেন। এ কাব্যে আদিরস থাকলেও মূলত কাব্যটি বীররসাত্মক।
মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণবিজয় সম্পর্কে ডঃ সুকুমার সেন বলেন- “শ্রীকৃষ্ণবিজয় গাহিবার জন্য লেখা হইলেও ইহা বর্ণনায় আখ্যায়িকা পাঞ্চালী । ইহাতে কাব্য কলানৈপুণ্য প্রকাশের অবকাশ থাকিলেও কবির চেষ্টা পরিলক্ষিত হয় নাই। তবুও আন্তরিকতা এবং সরল ভক্তি ভাব রচনার মধ্যে স্থানে স্থানে ভাবুকতার স্নিগ্ধতা দিয়াছে।”
চৈতন্যপূর্ব যুগে মালাধর বসুর মধ্যে দিয়ে ভাগবত অনুবাদের যে ধারাটির সূত্রপাত ঘটে, পরবর্তীতে তা বিচিত্ররূপে অব্যাহত থাকে। মনীন্দ্রমোহন বসু এ ধারার ২৪ জন কবির কথা বলেছেন, তাদের মধ্যেকার কিছু কবির নাম ও তাদের কাব্যের নাম উল্লেখ করা হলো- দ্বিজমাধব— শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল, রঘুনাথ ভাগবতাচার্য— কৃষ্ণ প্রেম তরঙ্গিনী, যশোরাজ খান – কৃষ্ণমঙ্গল, দুঃখী শ্যাম দাস- শ্রীকৃষ্ণ বিলাস।
‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের নামই কেবল পরিবর্তিত হয় নি, বরং প্রত্যেক কবিই নিজ নিজ ইচ্ছানুসারে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করেছেন ।