নবাব সিরাজ উদ দৌলার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল
নবাব সিরাজ উদ দৌলার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল |
নবাব সিরাজ উদ দৌলার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল
- অথবা, নবাব সিরাজ উদ দৌলার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল? লিখ ।
- অথবা, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মৃত্যুর কারণ কি?
উত্তর : ভূমিকা : বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব হলেন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা। তিনি ১৭৫৬ সালে তার নানা আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
কিন্তু সে সময়ে তার পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। চারদিকে শুধু তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। অবশেষে পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে তিনি পরাজিত ও নিহত হন।.
নবাব সিরাজের মৃত্যু : ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে নবাব সিরাজ পরাজিত হয়ে পালিয়ে গেলে মীর জাফর তার খোঁজে লোক পাঠালেন।
৩ জুলাই সিরাজ মহানন্দা নদীর স্রোত অতিক্রম করে এলেও তাতে জোয়ার ভাটার ফলে হঠাৎ করে জল কমে যাওয়ায় নাজিমপুরের মোহনায় এসে তার নৌকা চরে আটকে যায়।
তিনি নৌকা থেকে নেমে খাবার সংগ্রহের জন্য একটি মসজিদের নিকটবর্তী বাজারে আসেন। সেখানে কিছু লোক তাকে চিনে ফেলে এবং অর্থের লোভে মীর কাশিমের সৈন্যবাহিনীকে খবর দেয়।
এ সম্পর্কে ভিন্ন আরেকটি মত আছে যে, এক ফকির ইতিপূর্বে নবার কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে তার এক কান হারিয়েছিল। সেই ফকির নবাবের খবর জানিয়ে দেয়।
তারা এসে নবাবকে বন্দি করে রাজধানী মুর্শিদাবাদে পাঠিয়ে দেয়। বন্দি হবার সময় নবাবের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেগম এবং চার বছর বয়সী কন্যা উম্মে জহুরা।
এর পরের দিন ৪ জুলাই মীর জাফরের আদেশে তার পুত্র মীরনের তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদী বেগ নামের এক ঘাতক সিরাজ-উদ-দৌলাকে হত্যা করে।
কথিত আছে যে, সিরাজের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে সারা শহরে ঘোরানো হয়। মুর্শিদাবাদের খোশবাগে নবাব আলীবর্দী খানের কবরের কাছে তাকে কবর দেওয়া হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, পলাশির প্রান্তরে নবাবের পরাজয়ের সাথে সাথে বাংলার আকাশে কালো মেঘ জমা হয়। অতঃপর নবাব চক্রান্তে পড়ে ধৃত হলে তার করুণ মৃত্যু একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।